শিল্প থেকে শিল্প : বাংলার আঙিনায় পুনর্গঠন-পুনর্কথন

অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়

কৈশোরে আমি আর আমার গুটি দুই বন্ধু প্রায়ই স্কুল পালিয়ে পটুয়াপাড় ায় যেতাম। সেখানে সব পটুয়াই যে আমাদের ঘুরঘুর করা পছন্দ করতেন তা না। শুধু দোলগোবিন্à ¦¦ রাণা বলে একজন মৃৎশিল্পীà¦â €¡ আমাদের প্রশ্রয় দিতেন, মূর্তিগড়ঠ¾à¦° ব্যপারে নানা প্রশ্নের উত্তর দিতেন। আমরা তাঁকে দুলুদা বলে ডাকতাম। কীভাবে বাঁশ-কাঠ-à¦–à¦¡à ¦¼à§‡à¦° আঁটি, সুতলি-দড়ি, মাটি সব একের পর এক মিলেমিশে ঠাকুরদেবতঠ¾à¦° আকার ধারণ করে, সেটা দেখতে ভারি মজা লাগতো। তা, একবার বেশ কিছু বিক্রি না হওয়া লক্ষ্মী প্রতিমা দেখে তাঁকে প্রশ্ন করেছিলাম, এগুলো কি হবে? উনি রহস্য করে বলেছিলেন, যে-ই লক্ষ্মী, সে-ই সরস্বতী, সে-ই মনসা। তখনো সুকুমার সেন মশাইয়ের লেখা পড়িনি, কাজেই প্রথম দুজনের অভিন্নতা সম্মন্ধে কোনো ধারণা করা সম্ভব হয় নি। আবার নীহাররঞ্জà¦Â ¨ রায়ও পড়া হয় নি, কাজেই দ্বিতীয়া ও তৃতীয়ার ঘনিষ্ঠতার ব্যপারেও অনবহিত। (এবং আমার ঘোরতর সন্দেহ দুলুদা কখনোই পড়ে নি।) কিন্তু সরস্বতী মূর্তি গড়ার সিজন শুরু হলে দেখলাম ওপরে তুলে রাখা কয়েকটা পদ্মাসীনা প্রতিমা নামিয়ে, ভেঙে-গড়ে তোলা হল সরস্বতী রূপে। বসার ভঙ্গিতে সাদৃশ্য তো ছিলই। হাতে শুধু বীণা ধরানোর অপেক্ষা, আঙুলগুলিও বদলাতে হল বীণা ধরা হাতটির। প্যাঁচা খুলে জুড়ে দেওয়া হল দিব্যি একটা প্যাঁকপ্যà¦Â ¾à¦à¦• করা হাঁসও। কুমোরপাড়ঠ¾à¦¯à¦¼ নাকি এরকম হামেশাই করা হয়ে থাকে।

বস্তুতঃ দুটি রূপের মধ্যে যে আকারগত সাদৃশ্য তার সুকৌশলী প্রয়োগ- আর্ট মেটেরিয়াঠ² নিয়ে ভেঙেচুরে যে আবার নতুন আর্ট সৃষ্টি সম্ভব, কৈশোরে আমাদের তার সাথে এইভাবেই প্রত্যক্ষ পরিচয় বলা যেতে পারে।

কলেজে পড়ার সময় সত্যজিতের ছবিগুলির সাথে আবার নতুন করে পরিচয় হল কলেজের ফিল্ম সোসাইটির সুবাদে। বলা বাহুল্য, চারুলতা ছবিটিও এইবারে আবার দেখা হল, এবার একটু বেশি মনোযোগ দিয়ে। সে ছবির সম্পর্কে সোসাইটির কোনো বোদ্ধা বলেছিলেন কিছু ফ্রেমে ধরা পড়া এক বিচ্ছিন্নà¦Â ¤à¦¾à¦° কথা। চিত্রবিদ্য া শিখিনি কাজেই সেই মন্তব্যের সারগ্রহণ তখন সম্ভব হয় নি। পরে সত্যজিত রায়ের প্রবন্ধ থেকে (বিষয়ঃচলচà§Â �চিত্র) মনে হয়েছিল সেই ফ্রিজ শটের কথা যা উপন্যাসের সমাপ্তিসূà¦Å ¡à¦• বাক্যের সিনেমাটিক তুল্য প্রতিরূপ বলা চলে।

"ভূপতি বুঝিল, অমলের বিচ্ছেদস্ঠ®à§ƒà¦¤à¦¿ যে বাড়িকে বেষ্টন করিয়া জ্বলিতেছে চারু দাবানলগ্রà¦Â ¸à§à¦¤ হরিণীর মতো সে বাড়ি পরিত্যাগ করিয়া পালাইতে চায়।–– ‘কিন্তু, আমার কথা সে একবার ভাবিয়া দেখিল না? আমি কোথায় পলাইব। যে স্ত্রী হৃদয়ের মধ্যে নিয়ত অন্যকে ধ্যান করিতেছে, বিদেশে গিয়াও তাহাকে ভুলিতে সময় পাইব না? নির্জন বন্ধুহীন প্রবাসে প্রত্যহ তাহাকে সঙ্গদান করিতে হইবে? সমস্ত দিন পরিশ্রম করিয়া সন্ধ্যায় যখন ঘরে ফিরিব তখন নিস্তব্ধ শোকপরায়ণঠ¾ নারীকে লইয়া সেই সন্ধ্যা কী ভয়ানক হইয়া উঠিবে। যাহার অন্তরের মধ্যে মৃতভার তাহাকে বক্ষের কাছে ধরিয়া রাখা, সে আমি কতদিন পারিব। আরো কত বৎসর প্রত্যহ আমাকে এমনি করিয়া বাঁচিতে হইবে! যে আশ্রয় চূর্ণ হইয়া ভাঙিয়া গেছে তাহার ভাঙা ইঁটকাঠগুলà ¦¾ ফেলিয়া যাইতে পারিব না, কাঁধে করিয়া বহিয়া বেড়াইতে হইবে?’

ভূপতি চারুকে আসিয়া কহিল, “না, সে আমি পারিব না।”

মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত রক্ত নামিয়া গিয়া চারুর মুখ কাগজের মতো শুষ্ক সাদা হইয়া গেল, চারু মুঠা করিয়া খাট চাপিয়া ধরিল।

তৎক্ষণাৎ ভূপতি কহিল, “চলো চারু, আমার সঙ্গেই চলো।”

চারু বলিল, “না থাক্‌।”

-রবীন্দ্র রচনাবলী, নষ্টনীড়,বঠ¿à¦‚শ পরিচ্ছেদ
http://www.rabindra-rachanabali.nltr.org/node/1646

কিন্তু একটা অনুচ্চারিà¦Â ¤ প্রশ্ন মনেই থেকে গিয়েছিল, যে এই অন্তিম শট ছাড়াও à¦à¦•à¦¾à¦•à§€à¦¤à§à¦¬à§‡à ¦° আর সমাসন্ন বিচ্ছেদের কোনো চিত্ররূপ কি আছে ছবিটিতে যা ঠিক সংলাপে ধরা সম্ভব নয় কখনোই, অথচ চিত্রভাষায ় একদম চোখের সামনে মেলে ধরা সত্য?

বহুবছর বাদে এডওয়ার্ড মানে-র(২৩ জানুয়ারি,à§Â §à§®à§©à§¨-৩০ এপ্রিল ১৮৮৩) একটি ইম্প্রেশনঠ¿à¦¸à§à¦Ÿ ছবির (On the Beach, ছবিটি বর্তমানে Musée d’Orsay, Paris-এ রক্ষিত) বইতে দেখে মনে হল, আলোকোজ্বল সমুদ্রের প্রেক্ষাপঠŸà§‡ ঈষৎ বিষাদিত যুগলের এই রকম কমপোজিশন কোথায় যেন দেখেছি। মাথামুড় খুঁড়ে সেই চারুলতার কথা মনে পড়ল। দেখ, দেখ, আবার চারুলতা চালানো হল, এতদিনে সে ছবি সোসাইটির কিরকির করে চলা ১৬ মিমির প্রজেকটার ছেড়ে, ভিসিপি যুগ পার করে ডিভিডি-পেন ড্রাইভে এসে ঠেকেছে।

ছবির প্রায় শেষের দিকে, অমলের প্রস্থানেà¦Â ° পর যখন ভগ্নহৃদয় চারু ও ভূপতি পুরীর সমুদ্রতটে, সেই দৃশ্য দেখে লাফিয়ে উঠতে গেলাম। সেই আলোকোজ্বল সমুদ্রের প্রেক্ষাপঠŸà§‡ যুগলের বসে থাকা। একটাই খটকা। তৈলচিত্রটি তে মুখে মসলিনের ঢাকা দেওয়া মহিলা বাঁ দিকে উপবিষ্টা, সিনেমার ফ্রেমে তিনি ডানে। তা, সফটওয়্যাà¦Â °à§‡à¦° দৌলতে আজকাল ছবিকে ডাইনে বাঁয়ে ফ্লিপ করে দেওয়া কোনো ব্যপার না। সেই কারু-কর্তবà §‡à¦° পর দুটি ছবিকে পাশাপাশি রাখলে যা দাঁড়ায় তা এই।


[এডওয়ার্ড মানের ছবি, সমুদ্রতটে, আর চারুলতার সেই ফ্রেম, এখানে উল্টে দেওয়া হয়েছে]

অপিচ, প্যারিসের সেই মিউজিয়াম ছবিটির ক্যাটালগে লিখছে, Manet had his wife and his brother pose for him on the beach as is shown by the grains of sand mixed with the paint. Suzanne, well protected against the sun and the wind by a muslin veil and a voluminous summer dress, is absorbed in her book. Eugène, the painter's brother and soon to be the husband of Berthe Morisot, is gazing out to sea,.. The two triangles formed by the figures stabilize the composition. They are turning their backs on a spectator and seem to be absorbed in their own worlds. This isolation gives the painting an indefinable melancholic feel."-

http://www.musee-orsay.fr/en/collections/works-in-focus/sear ch/commentaire/commentaire_id/sur-la-plage-321.html?no_cache =1

বলা বাহুল্য সিনেমার এই মুহূর্তটাà¦Â ¯à¦¼ দর্শক জানেন, চারুও জানে, যে চারুর মন আছে অমলের প্রতি অভিমানে পরিপূর্ণ হয়ে, তার আর ভূপতির মানসিক বিচ্ছেদের পালা শুরু হয়ে গিয়েছে। এই দুই বিষাদের চিত্রভাষা কি আশ্চর্যজনà¦â €¢à¦­à¦¾à¦¬à§‡ মিলে যায়। প্রশ্ন উঠতে পারে, এই সাদৃশ্য কি নিতান্তই সমাপতন? শিল্পসম্মত কমপোজিশনেà ¦° প্রাথমিক নিয়মগুলিà¦â €¡ কি উভয় শিল্পীকে একই দিকে চালিত করেছে? অসম্ভব নয়।

কিন্তু এই পুনর্ব্যবহ ার ইচ্ছাকৃত হওয়ারও প্রায় সমান সম্ভাবনা নেই কি? শ্রী রায় শিক্ষায় শিল্পী, ইমপ্রেশনিঠ¸à§à¦Ÿ রেনোয়া সিনিয়রের আঁকা ছবির আলো-ছায়ার সাথে, পাশ্চাত্যà§â€ ¡à¦° শিল্পধারা সম্পর্কে অবশ্যই অবহিত ছিলেন। চিত্র পরিচালক রেনোয়া জুনিয়রকে ভারতবর্ষে লোকেশন হান্টে সহায়তা করেছিলেন, রেনোয়ার আ ডে ইন দি কান্ট্রী ছবির দোলনার দৃশ্য চারুলতার দোলনায় ছাপ রেখে গেছে এরকম কথাও বলেছেন কেউ কেউ। তা যদি হতে পারে, তবে সমুদ্রতটেà¦Â ° এই ফ্রেমটিও তৈলচিত্র দ্বারা অণুপ্রাণিà¦Â ¤ মানতে খুব একটা অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

যদিও এই ব্যপারটির কথা আমি আগে কোথাও শুনিনি, আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস শ্রী রায় এই বিচ্ছিন্নà¦Â ¤à¦¾à¦° এলিমেন্ট সচেতন ভাবেই ছবিতে কাজে à¦²à¦¾à¦—à¦¿à¦¯à¦¼à§‡à¦›à§‡à ¦¨à¥¤ জহুরীর চোখ। সাহিত্য-শিà¦Â ²à§à¦ªà§‡à¦° উপাদান বস্তুত কী? আমাদের ইন্দ্রিয়à¦â €”্রাহ্য ও ক্ষেত্রবিঠ¶à§‡à¦·à§‡ অতীন্দ্রিঠ¯à¦¼ অভিজ্ঞতা যখন আমাদের শিক্ষা, সংস্কার ও বোধের রসে জারিত হয়ে কথার, রেখার নিগড়ে আত্মপ্রকাঠ¶ করে, তাকেই সার্থক সাহিত্য বা শিল্পকীর্ঠ¤à¦¿ বলা যায়। এই ইন্দ্রিয়à¦â €”্রাহ্য অভিজ্ঞতার তালিকাটি বেশ দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যম য় হতে পারে। বিশুদ্ধ প্রকৃতি হতে পারে, মানবিক আদানপ্রদাà¦Â ¨ হতে পারে, আবার মানবসৃষ্ট শিল্প-সুকৃঠ¤à¦¿à¦“। মানে শিল্প থেকে শিল্প।

আরেকটি অভিজ্ঞতার কথা বলা যাক। বাংলা কবিতা ঘাঁটতে ঘাঁটতে প্রণবেন্দà§Â � দাশগুপ্তর একটি কবিতায় আমার চোখ আটকে গেল।

মুংকের একটি প্রিন্ট
মুংক,à¦¨à¦°à¦“à¦¯à¦¼à §‡à¦° শিল্পী, চিৎকারের ছবি এঁকেছেন।
একটা প্রিন্ট আমার শোবার ঘরে টাঙানো রয়েছে।
আমি দিনে অন্তত একবার, ঐ ছবিটির দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে
মানুষকে বুঝবার চেষ্টা করি।
মানুষই কাঁদতে পারে এইভাবে, মনে হয়।
নির্জন ব্রীজের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে-
যখন সামনে থাকার মতো কিছু নেই,
পেছনে দু-একটা লোক সরে যাচ্ছে পাৎলা কুয়াশায়-
মানুষ নিজেকে নিয়ে কী করবে, বুঝতে পারে না।
যখন সে জন্ম নেয়, তখনও সে কেঁদে উঠেছিল।
কিন্ত, সে তো সকলেই কাঁদে!
এখন - অনেকদিন পরে-সে আবার প্রাণ ভরে কেঁদে উঠবে বলে
নির্জন সাঁকোয় উঠে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
নীচে নির্বিকার নদী; অনন্ত আকাশ; তারা জ্বলে।
(আধুনিক বাংলা কবিতা, ২য় খন্ড,ISBN-81-7267-035-4, পৃ ১১১)


[মুঙ্কের ছবিঃ দি স্ক্রীম]

ছবিটি নেট থেকেই দেখলাম। পাঠকের জ্ঞাতার্থà§â€ ¡ লিঙ্কটি দিয়ে দেওয়া হল https://en.wikipedia.org/wiki/The_Scream. শিল্পী এডভার্ড মুঙ্ক (১২ ডিসেম্বর ১৮৬৩-২৩ জানুয়ারি ১৯৪৪) ১৮৯৩ থেকে ১৯১০ এর মধ্যে এই একই বিষয়ে অয়েল, টেম্পারা, প্যাস্টেল ইত্যাদি মাধ্যম মিলিয়ে গোটা চারেক ছবি আঁকেন। শিল্পীর নিজের ভাষায়: “One evening I was walking along a path, the city was on one side and the fjord below. I felt tired and ill. I stopped and looked out over the fjord—the sun was setting, and the clouds turning blood red. I sensed a scream passing through nature; it seemed to me that I heard the scream. I painted this picture, painted the clouds as actual blood. The color shrieked. This became The Scream.”

উপরোক্ত দুটি ক্ষেত্রেই ছবির (চিত্রকলা) সাথে নবনির্মিত শিল্পকীর্ঠ¤à¦¿à¦° একটা যোগ দেথা যাচ্ছে। কিন্তু সেই যোগাযোগের প্রকৃতি এক নয়। প্রথম ক্ষেত্রে একটা সাদৃশ্যনির ্ভর প্রয়োগ ঘটছে নতুন শিল্পকীর্ঠ¤à¦¿à¦Ÿà¦¿à¦¤à§‡, পরের ক্ষেত্রে আদি শিল্পবস্তু টির রূপ অন্য মাধ্যমে বিবৃত করবার চেষ্টা। প্রথমটিকে যদি পুনর্গঠন বলি, পরেরটিকে পুনর্কথন বলা যেতে পারে। প্রথম ক্ষেত্রে মাধ্যমের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না, একটা বিমূর্ত ভাবনা-বিচ্à¦â €ºà¦¿à¦¨à§à¦¨à¦¤à¦¾à¦¬à§‹à¦§, বিষাদ, প্রথমে তৈলচিত্রে, ও পরে সিনেমার ফ্রেমে বন্দী হচ্ছে, দুটোই দৃশ্য-মাধ্à¦Â ¯à¦®), দ্বিতীয় ক্ষেত্রে একটা জগদ্ব্যাপà§â ‚¬ হাহাকারের অনুভব প্রথমে টেম্পারা মাধ্যমে ধরা পড়ছে, তার পর সেই হাহাকার বিবৃত হচ্ছে কবিতার কথনে, কিন্তু এবার আর সরাসরি নয়, ছবির রাস্তা ধরে,যেন ছবিটি সরাসরি ধরা পড়ছে কথার বাঁধুনিতেà¥Â ¤

এই পুনর্কথনকৠ‡ ইংরাজি ভাষায় একটি সংজ্ঞা দেওয়া গিয়েছে, Ekphrasis বা একফ্রাসিসà¥Â ¤ গ্রীক ভাষায় "এক" মানে বাহির, "ফ্রাসিস" মানে বলা। ব্যপারটা তাহলে দাঁড়ালো যা ছিল অব্যক্ত অথচ চোখের সামনে, তাকে বিশদে বলা বা খুলে বলা । পুনর্বিবরণ হওয়া সত্ত্বেও এ ধরনের কাজের মূল্য অসীম, কারণ এটি একটি স্বয়ংসম্à¦Â ªà§‚র্ণ শিল্পকীর্ঠ¤à¦¿à¥¤ তাছাড়া দৃশ্য-মাধ্à¦Â ¯à¦® বা শব্দ-মাধ্যà¦Â ®, দুটিরই তো এক বিষয়ে মিল আছে-তাদের সীমাবদ্ধতà¦Â ¾à¦¯à¦¼à¥¤ মানতে মন চাইছে না? তাহলে গ্রীসের দর্শন-চর্চà¦Â ¾à¦° à¦†à¦¦à¦¿à¦—à§à¦°à§à¦•à§‡à ¦‡ উদ্ধৃত করি?
"You know, Phaedrus that is the strange thing about writing, which makes it truly correspond to painting.
The painter's products stand before us as though they were alive,
But if you question them, they maintain a most majestic silence.
It is the same with written words; they seem to talk
To you as if they were intelligent, but if you ask them anything
About what they say, from a desire to be instructed,
They go on telling you just the same thing forever".

ছবি তার সমস্ত রহস্য মেলে ধরে নির্বাক তাকিয়ে থাকে। তাকে ভাষায় প্রশ্ন করলে সে মূক-বধিরের মত তাকিয়ে থাকে । আবার লিখিত ভাষা যা বলে উঠতে পারে, তার অতিরিক্ত একটিও প্রশ্ন করলে সে-ও বুলি পড়া তোতাপাখির মতই একই কথা আবার বলে যায়।

ফলতঃ, ছবিতে বা কবিতায় বা অন্য কোনো শিল্পকীর্ঠ¤à¦¿à¦¤à§‡ যতক্ষণ সেই প্রার্থিত ভাবের সবটা নিঃশেষিত ভাবে বিধৃত হল, এই তৃপ্তি স্রষ্টা অনুভব না করছেন, ততক্ষণ শিল্পকীর্ঠ¤à¦¿à¦Ÿà¦¿ সম্পূর্ণ হয়ে ওঠে না। কুমোরটুলিঠ° মত নিতান্ত অর্থনৈতিক কারণে নয়, প্রকাশের দুর্বার তাগিদেই পুনর্গঠনেঠ° প্রণোদনা। প্রসঙ্গত, মুঙ্ক ঠিক যে আর্ত-চিৎকাà ¦° অনুভব করেছিলেন, তার কতটা তিনি ছবিতে ধরতে পেরেছিলেন সেটা নিয়ে একটা সংশয় থেকেই যায়, বিশেষতঃ যখন শিল্পী এই ছবিটি চারবার আলাদা করে এঁকেছিলেন| চারটি ভার্সান ছাড়াও বেশ কিছু লিথো প্রিন্ট বানিয়ে নিজহাতে রং-ও ভরেছিলেন। বলা যেতেই পারে যে অতৃপ্তিই মুঙ্ককে বারবার একই ছবি আঁকার প্রণোদনা দিয়েছে - কাজেই কবি যখন তার পুনর্বিবৃত ি করছেন, তখন তার একাধিক প্রতিস্থাপ ন ঘটে গিয়েছে।

বাংলা সাহিত্যে যদি এই জাতীয় উদাহরণের সন্ধান করতে বসি তাহলে প্রথম কোথায় যাওয়া যেতে পারে, এটা অনুমান করতে কোনো পুরস্কার ঘোষণার দরকার আছে বলে মনে হয় না। যিনি একটি ফেলে দেওয়া চিঠির হাওয়ায় উড়ে যাওয়া দেখে গান রচনা করে ফেলেন, "লিখন তোমার ধূলায় হয়েছে ধূলি" কিংবা একটি ছবি দেখে, তুমি কি কেবলই ছবি-র মত গান,তাঁকে সৃষ্টির পথে প্রণোদনা দিয়ে যায় নি কোন দৃশ্য,কোন ছবি বা কোন ভাস্কর্য, এ একান্ত অসম্ভব| অতি অল্পবয়সে জাহাজে করে ইয়োরোপ যেতে যেতে, লোহিত সাগরের বুকে একটি অসাধারণ সূর্যাস্ত দেখেছিলেন তরুণ রবীন্দ্রনà¦Â ¾à¦¥, তারিখটি ছিল ৩০ শে আগস্ট, ১৮৯০। সমুদ্র নিঃস্পন্দ ও আবহাওয়া পরিষ্কার থাকার দরুণ সেই সন্ধ্যার সূর্যাস্ত কনক-প্রভামà ¦¨à§à¦¡à¦¿à¦¤ ছিল, আকাশে কবির প্রিয় নীল-হলুদের কারুশিল্প ফলিয়েছিলৠ‡à¦¨ প্রকৃতিমাà¦Â ¤à¦¾à¥¤ “য়োরোপ যাত্রীর ডায়েরি”-তà §‡ তার উল্লেখ আছে। “সূর্য অস্ত গেল। আকাশ এবং জলের উপর চমৎকার রং দেখা দিয়েছে। সমুদ্রের জলে একটি রেখামাত্র নেই। দিগন্তবিসà§Â �তৃত অটুট জলরাশি যৌবনপরিপূà¦Â °à§à¦£ পরিস্ফুট দেহের মতো একেবারে নিটোল এবং সুডোল। …জলের যে বর্ণবিকাশ হয়েছে সে আকাশের ছায়া, কি সমুদ্রের আলো ঠিক বলা যায় না। যেন একটা মাহেন্দ্রà¦â €¢à§à¦·à¦£à§‡ আকাশের নীরব নির্নিমেষ নীল নেত্রের দৃষ্টিপাতà§â€ ¡ হঠাৎ সমুদ্রের অতলস্পর্শ গভীরতার মধ্যে থেকে একটা আকস্মিক প্রতিভার দীপ্তি স্ফূর্তি পেয়ে তাকে অপূর্ব মহিমান্বিত করে তুলেছে।“
গবেষক এবং প্রখ্যাত সাহিত্যিক শ্রীমতী কেতকী কুশারী ডাইসন রঙের রবীন্দ্রনà¦Â ¾à¦¥ গ্রন্থে লিখছেন - “আমরা জানি যে পরের দিনই এই অভিজ্ঞতাটà¦Â ¿à¦•ে কবিতায় ধরবার চেষ্টা করেছিলেন রবীন্দ্রনà¦Â ¾à¦¥ কবিতাটি তাঁর পছন্দ হয় নি পরে সেটি বদলাতে দিয়ে দুটি কবিতা লিখে ফেলেছেন একটি লন্ডনে বসে (“বিদায়”), অন্যটি ফেরার সময়, জলপথে সুয়েজ খালের ভেতর দিয়ে যেতে যেতে (“সন্ধ্যাযঠ¼â€)।” (রঙের রবীন্দ্রনà¦Â ¾à¦¥- কেতকী কুশারি ডাইসন, সুশোভন অধিকারী, ISBN 81-7215-673-1,পৃ-৮৪)

এই বইটিতেই বিস্তৃত সমীক্ষা রয়েছে চিত্রা কাব্যগ্রনৠà¦¥à§‡à¦° দেহসৌন্দরà§Â �যের বর্ণনা নিয়ে, - “এই কাব্যগ্রনৠà¦¥à§‡ এমন সব বর্ণনা দেখতে পাই যেগুলি পড়ে মনে হয় যে পাশ্চাত্য চিত্রকলা ও ভাস্কর্যেঠ° সাথে তাদের রচয়িতার প্রত্যক্ষ পরিচয় ছিলো।” (তদেব,পৃ ১৫০) বত্তিচেল্à¦Â ²à¦¿à¦° আঁকা ভিনাস, বা নিদ্রিত রূপবান এনডিমিওনকৠ‡ নিরীক্ষণরঠ¤à¦¾, চন্দ্রলাঞ্ ছন-শোভিতা ডায়ানা (গ্রীক পুরাণের একটি বহু ব্যবহৃত থীম, অজস্র ছবি আঁকা হয়েছে, কীটসের কবিতাও আছে এই থীম নিয়ে), বা নিদ্রিতা বিবসনা সুন্দরীকে নিরীক্ষণরঠ¤ দেবরাজ জীউস... এই জাতীয় ছবির খুঁটিনাটি যে রবীন্দ্রনà¦Â ¾à¦¥à§‡à¦° কবিতার আনাচে কানাচে জায়গা পেয়ে গেছে এটা খুব স্পষ্ট।
উদাহরণ হিসেবে কাব্যনাটক চিত্রাঙ্গঠ¦à¦¾-য় নিদ্রিতা চিত্রাঙ্গঠ¦à¦¾à¦° রূপলাবণ্যà§â €¡à¦° সামনে কামনাদগ্ধ ব্রহ্মচারà§â‚ ¬, ব্রতধারী অর্জুনের বর্ণনা উদ্ধৃত হল।
“...................সপ্তপঠ°à§à¦£à¦¶à¦¾à¦–া হতে
ফুল্ল মালতীর লতা আলস্য-à¦†à¦¬à§‡à¦¶à §‡
মোর গৌরতনু-â€™à¦ªà¦°à §‡ পাঠাইতেছিà ¦²
নিঃশব্দ চুম্বন; ফুলগুলি কেহ চুলে,
কেহ পদতলে, কেহ স্তনতটমূলà§â €¡
বিছাইল আপনার মরণশয়ন।

..... হেনকালে
ঘুমঘোরে কখন করিনু অনুভব
যেন কার মুগ্ধ নয়নের দৃষ্টিপাত
দশ অঙ্গুলির মতো পরশ করিছে
রভসলালসে মোর নিদ্রালস তনু।
চমকি উঠিনু জাগি।
দেখিনু, সন্ন্যাসী
পদপ্রান্তà§â€ ¡ নির্নিমেষ দাঁড়ায়ে রয়েছে
স্থিরপ্রতি মূর্তিসম। ......”

পরবর্তী উদাহরণে যাওয়ার আগে রবীন্দ্রনà¦Â ¾à¦¥à§‡à¦° প্রবন্ধ শিল্প শীর্ষকের অন্তর্গত দুটিই প্রবন্ধ, মন্দিরপথবর ্তিনী ও মন্দিরাভিম ুখে - এই দুটির পিছনের কাহিনী জেনে নেওয়া সঙ্গত। ১৮৯৬ খ্রীষ্টাবৠà¦¦à§‡ বম্বে আর্ট সোসাইটির প্রদর্শনীà¦Â ¤à§‡ গণপতরাও কাশীনাথ ম্হাত্রে (১৮৭৬-১৯৪৭) নামে ইতিপূর্বে অজ্ঞাত এক তরুণের একটি প্লাস্টার ভাস্কর্য (মন্দিরের পথে,To the Temple) রৌপ্য পদক লাভ করে। সেই যুগের পক্ষে এই অভূতপূর্ব সাফল্য এক নিমেষে তরুণ ম্হাত্রেকৠ‡ রাতারাতি বিখ্যাত করে তোলে। দেশীয় ভাষার পত্রপত্রিà¦â€ ¢à¦¾à¦¯à¦¼ তো বটেই, রয়্যাল সোসাইটি অভ আর্টসের বার্ষিক জার্নালে জর্জ ক্রিস্টোফঠ¾à¦° মোলসওয়ারৠà¦¥ বার্ডউড ছবিতে দেখে এই প্লাস্টার ভাস্কর্যটà¦Â ¿à¦•ে মর্মরমূর্à¦Â ¤à¦¿ বলে ভুল করে গ্রীক মাস্টারপীà¦Â ¸à¦—ুলির সাথে তুলনা পর্যন্ত্য করে ফেলেন। বলা বাহুল্য, সবার এই প্রশংসা যুক্তিযুকৠà¦¤ মনে হয় নি। তাঁদের একজন জনৈক এ্যাংলো ইন্ডিয়ান, মিঃ চিজহোম ইংরাজি পত্রিকায় এনার সাথে বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন।


[সেই মূর্তি, মন্দিরাকডà¦Â ¼à§‡ বা To The Temple (ছবিঃ সৌজন্যে কুমারী গৌরী জোগলেকর)]

যাই হোক, রবীন্দ্র-পৠà¦°à¦¬à¦¨à§à¦§à¦¦à§à¦Ÿà¦¿ ভারতীয় আর্টচর্চা ও তার ভবিষ্যৎ ও আদৌ ভারতীয় ছাত্র শ্রী ম্হাত্রের মধ্যে সেই প্রতিশ্রুত ি বিদ্যমান কিনা, পত্রিকায় ঝড় তোলা এই বিতর্কের প্রসঙ্গে হলেও, কবি পত্রপত্রিà¦â€ ¢à¦¾à¦¯à¦¼ প্রকাশিত ছবিটি দেখে তাকে স্বকীয় অনবদ্য ভাষায় বিবৃত করে দিয়েছিলেà ¦¨ পাঠকের সুবিধার্থà§â€ ¡à¥¤ ভাস্কর্যেঠ° পুনর্বিবৃত িটি একবার দেখে নেওয়া যাক।
………“অঙ্গà¦Â ªà§à¦°à¦¤à§à¦¯à¦™à§à¦— বসনভূষণ ভাবভঙ্গি সমস্ত লইয়া কেশের অবস্থান এবং পদাঙ্গুলিঠ° বিন্যাস পর্যন্ত সবটা মিলাইয়া মানবদেহের একটি অপরূপ সংগীত একটি সৌন্দর্যসা মঞ্জস্য কল্পনার মধ্যে এবং সেখান হইতে জড় উপকরণপিণ্ঠ¡à§‡ জাগ্রত করিয়া তোলা প্রতিভার ইন্দ্রজালà¥Â ¤ বামপদের সহিত দক্ষিণ পদ, পদন্যাসের সহিত দেহন্যাস, বাম হস্তের সহিত দক্ষিণ হস্ত, সমস্ত দেহলতার সহিত মস্তকের ভঙ্গি এইগুলি অতি সুকুমার নৈপুণ্যের সহিত মিলাইয়া তোলাই দেহসৌন্দরà§Â �যের ছন্দোবন্ধॠ¤ এই ছন্দোরচনাঠ° যে নিগূঢ় রহস্য তাহা প্রতিভাসম্ পন্ন ভাস্করই জানেন এবং হ্মাত্রে-রঠšà¦¿à¦¤ মূর্তির মধ্যে অঙ্গপ্রত্à ¦¯à¦™à§à¦— বসনভূষণ বেশবিন্যাà¦Â ¸ এবং উদ্যতলঘুসà§Â �ন্দর ভঙ্গিটির মধ্য হইতে সেই বিচিত্র অথচ সরল সংগীতটি নীরবে ঊর্ধ্বদেশà§â €¡ ধ্বনিত হইয়া উঠিতেছে, যেমন করিয়া একটি শুভ্র বিকচ রজনীগন্ধা আপন উদ্যত বৃন্তটির উপর ঈষৎ-হেলিত সরল ভঙ্গিতে দাঁড়াইয়à¦Â ¾ স্তব্ধনিশà§â‚ ¬à¦¥à§‡à¦° নক্ষত্রলোঠ•মধ্যে পরিপূর্ণতà¦Â ¾à¦° একটি রাগিণী প্রেরণ করে।”……( http://www.rabindra-rachanabali.nltr.org/node/8868)

অথবা
“যে শুদ্ধশুচি ভক্তিমতী হিন্দুনারà§â‚ ¬ চিরদিন মন্দিরের পথে গিয়াছে এবং চিরদিন মন্দিরের পথে যাইবে, এ সেই নামহীন জন্মহীন মৃত্যুহীন রমণী—ইহার সম্মুখে কোন্‌ এক অদৃশ্য নিত্য তীর্থদেবাঠ²à¦¯à¦¼, ইহার পশ্চাতে কোন্‌ এক অদৃশ্য নিত্য গৃহপ্রাঙ্ঠ—ণ।”
( http://www.rabindra-rachanabali.nltr.org/node/8862)

একে পুনর্কথন আখ্যা দেওয়া অমূলক হবে না মনে হয়।

শুধু সিরিয়াস গবেষণামূলà ¦• গ্রন্থ নয়, আত্মীয়-পরà ¦¿à¦œà¦¨, শিল্প-সহচরà¦Â ¦à§‡à¦° স্মৃতিচারণ েও এরকম অজস্র ঘটনার বীজ থেকে গিয়েছে। শিল্পী অসিতকুমার হালদারের(à§§à§ ®à§¯à§¦-১৯৬৪, রবীন্দ্রনà¦Â ¾à¦¥à§‡à¦° সম্পর্কিত নাতি) চিত্রবিদ্য া শিক্ষা অবনীন্দ্রঠ¨à¦¾à¦¥, তাঁর অবন মামার কাছে। পরে রবীন্দ্রনà¦Â ¾à¦¥à§‡à¦° ডাকে শান্তিনিকà§â €¡à¦¤à¦¨à§‡ যোগ দেন, কলাভবন প্রতিষ্ঠায ় তাঁর অবদান অসীম। রবিতীর্থে নামক বইটিতে শান্তিনিকà§â €¡à¦¤à¦¨ ও ঠাকুর পরিবারে তাঁর অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ।

এই বইটিতে একাধিক এমন ঘটনার উল্লেখ আছে যা থেকে স্পষ্ট যে ছবি,বা ভাস্কর্য তো বটেই, খুব প্রত্যক্ষ, দৈনন্দিন ঘটনা এমন কি আশ্রম-ট্রিঠ­à¦¿à¦¯à¦¼à¦¾à¦“ তাঁকে প্রেরিত করতো। স্নেহের নাতি অসিতের আঁকা ছবি দেখে গান রচনা করে ফেলছেন, এরকম উল্লেখও একাধিক রয়েছে বইটিতে।

অসিতকুমার রবীন্দ্রনà¦Â ¾à¦–কে ১৩২৫ বঙ্গাব্দেà ¦° জন্মদিন উপলক্ষে যে ছবিটি এঁকে উপহার দিয়েছিলেà ¦¨, তার নাম ছিল প্রকৃতির হেঁয়ালি। উত্তরে রবী্ন্দ্রà¦Â ¨à¦¾à¦¥ লিখছেন," প্রকৃতির বুকে যে হেঁয়ালি আছে তাই নিয়েই আমার কারবার। আমার জন্মদিনে তারই ছবিটি সঙ্গত হয়েছে। ইতি- রবিদাদা" হেঁয়ালি। (রবিতীর্থে, অসিত কুমার হালদার, পৃ ৪৮)। এই ছবি প্রেরণা হয়ে দাঁডা়লো একটি গানের- "আশা যাওয়ার মাঝখানে"।

এখানেই শেষ নয়, শিল্পীর আঁকা কিছু ছবি রবীন্দ্রনà¦Â ¾à¦¥ নিয়ে রেখেছিলেন, তার মধ্যে একটি ছিল-"গ্রামà §à¦¯ বধূ ঘড়া-গামছা নিয়ে ঘাটে জল তুলতে গেছে কিন্তু সবকথা ভুলে গিয়ে পদ্মের পাপড়ি ছিঁড়ে জলে ভাসাচ্ছে। রবিদা ছবিটি দেখে বললেন,"জানঠ¿à¦¸,তুই এ কী করেছিস? এই ছবিতে তুই লিরিককে (à¦—à§€à¦¤à¦¿à¦•à¦¾à¦¬à§à¦¯à ¦•ে) মূর্তি দিয়ে ধরেছিস-এই ছবি ‘। ছবিটার উপর গান রচনা করলেনঃ একলা বসে একে একে অন্যমনে/পদà §à¦®à§‡à¦° দল ভাসাও জলে অকারণে।" (রবিতীর্থে,à ¦…সিত কুমার হালদার, পৃ ৫০)। অসিতকুমারৠ‡à¦° কথামত সেই ছবির তাড়া থেকে আরো অনেক গান রচনা করেন কবি।

শান্তিনিকà§â €¡à¦¤à¦¨à§‡ আর্টের ছাত্র মুকুল দে কে টাস্ক দিয়েছিলেà ¦¨ কবি, ক্যালেন্ডঠ¾à¦°à§‡à¦° বীণাবাদিনà§â ‚¬ নয়, মূর্তিমতী দিব্য-প্রজà§Â �ঞা আঁকতে হবে। মুকুলের করা একাধিক খসড়া তাঁর অনুমোদন পেল না। গ্রীষ্মাবঠ•াশের পর আশ্রমে ফিরতেই মুকুলের গুরুর অর্থাৎ অসিতকুমারৠ‡à¦° ডাক পড়ল কবিগুরুর কাছে। বাকিটা তাঁর কথাতেই বলি, "রবিদা তাঁর সব কথা বললেন এবং পুনরায় আমাকে তাঁর ‘দিব্য-প্রঠœà§à¦žà¦¾â€™ সরস্বতীর চিত্রাভাস তৈরা করতে বললেন। তিনি যেভাবে বর্ণনাকালà§â €¡ জ্যোতিদৃপà§Â �ত ভাব প্রকাশ করেছিলেন তাতে তাঁর সরস্বতীর আভাস পেয়ে একটি অগ্নিময়ী সরস্বতী আঁকলুম। রঙিন ছবিটি সম্পূর্ণ কোরে রবিদার সামনে ধরতেই তাঁরও মনে সুরের রঙ ধরলো, তিনি তুড়ি দিতে দিতে তাল দিয়ে গুঞ্জন করে রচনা করলেন-
তুমি যে সুরের আগুন
লাগিয়ে দিলে মোর প্রাণে
এ আগুন ছড়িয়ে গেল
সবখানে,à¦¸à¦¬à¦–à ¦¾à¦¨à§‡......."
(রবিতীর্থে,à ¦…সিত কুমার হালদার, পৃ ৪৯)

http://goaartgallery.com/haldar_asit_kumar.htm


[অগ্নিময়ী সরস্বতী]

সবশেষে একটি কথা বলে নেওয়া ভাল। বিশিষ্ট কোন চিত্র-ভাস্à¦â €¢à¦°à§à¦¯ বা স্থাপত্যেà¦Â ° পুনর্কথনকৠ‡ একটি আলাদা করে সংজ্ঞা দেওয়া হলেও, সাহিত্য-শিà¦Â ²à§à¦ªà§‡à¦° উপাদান বস্তুত যে বিভিন্ন ইন্দ্রিয়à¦Â ¨à¦¿à¦°à§à¦­à¦° মানবিক অভিজ্ঞতা এটা বুঝতে অসুবিধা হয় না। কিন্তু ইনগ্রেডিযà ¦¼à§‡à¦¨à§à¦Ÿà¦¸ যেমন রেসিপি বা রান্নার পদ নয়, তেমনি আমাদের শিক্ষা, সংস্কার ও বোধের মধ্যস্থতায ় কথার, রেখার নিগড়ে আত্মপ্রকাঠ¶ না করলে সে অভিজ্ঞতার বিবৃতি স্রেফ রিপোর্তাজ বা প্রতিবেদনà¦â €¡ থেকে যায়, শিল্পের স্তরে উত্তীর্ণ হতে পারে না। সে অর্থে, এই শৈল্পিক প্রকাশের সবটাই একফ্রাসিস, জীবনের অভিজ্ঞতার পুনর্কথন।

বিজ্ঞান বলে শক্তির কোনো ক্ষয় বা সূচনা নেই, এক রূপ থেকে অন্যরূপে পরিবর্তিত হয়ে চলে নিরন্তর। সার্থক সৃষ্টির আনন্দরূপও তেমনি পুনর্কথনে এক আকার থেকে অন্য আকারে সঞ্চারিত হয়ে যায় মাত্র।



ফেসবুক মন্তব্য